Breaking News
Home / Science / হ্যাকার থেকে সুরক্ষিত থাক ফেসবুক

হ্যাকার থেকে সুরক্ষিত থাক ফেসবুক

আপনার অ্যাকাউন্ট এবং ফেসবুক পেজের নিরাপত্তা রক্ষায় সন্দেহজনক অনুরোধ এবং কার্যক্রম বুঝতে সহায়তা করে এমন কিছু নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে ফেসবুক। পাশাপাশি ফেসবুক পেজ যেহেতু আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই এই দুটি বিষয়েরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

শক্তিশালী পাসওয়ার্ড:

ফেসবুকে নিরাপত্তার প্রথম শর্তই হচ্ছে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। শক্তিশালী মানে হচ্ছে হ্যাকার বা দুর্বৃত্তদের যেন আপনার পাসওয়ার্ড কোনোভাবেই অনুমান করতে না পারে। আপনার নাম, ফোন নাম্বার, ইমেইল অ্যাড্রেস বা সাধারণ শব্দ হচ্ছে সহজতম পাসওয়ার্ড। এমন পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকলে আজই পরিবর্তন করুন। কেননা এ ধরনের পাসওয়ার্ড বের করতে বড় কোনো হ্যাকার হওয়ার দরকার নেই। কেউ আপনার আইডি নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইলে, দুই চারবার নাম, ফোন নম্বর কিংবা ই-ঠিকানা দিয়ে চেষ্টা করলেই কিন্তু হয়ে যাবে। আর তখন আপনার গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টটি বেহাত! পাসওয়ার্ড শক্তিশালী হতে হলে লেটার বা অক্ষর, সংখ্যা, সংকেত যুক্ত করতে হবে যা আপনি ছাড়া অন্য কেউ অনুমান করেও কখনো বের করতে পারবে না। পাসওয়ার্ড শক্তিশালী হলেই হবে না; প্রয়োজন সেটি গোপন রাখা। আপনি হয়ত ফেসবুকে ঢুকছেন, পাশে বসা কেউ লক্ষ্য রাখছে কী পাসওয়ার্ড দেন! আপনি সাবধান না হলে সর্বনাশ। কেননা ওই ব্যক্তি আপনার পাসওয়ার্ড জেনে আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে। এজন্য অন্যান্য অনলাইন সেবায় ফেসবুকের পাসওয়ার্ড একবারের বেশি ব্যবহার করা এবং অন্য কারও সাথে নিজের পাসওয়ার্ড শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন:

পাসওয়ার্ডকে আরও নিরাপদ করার জন্য চাই টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন। এই বাড়তি নিরাপত্তা স্তরটি একবার সেট করে নিলে অন্য কোনো কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন থেকে অপরিচিত কেউ যদি আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে চেষ্টা করে, তাহলে প্রতিবারই আমরা আপনাকে কোড বা লগ ইন নিশ্চিত করতে বলব। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সেটআপে ই-মেইল কিংবা সেলফোন নম্বর দিতে বলা হয়। এখন নতুন কোনো ডিভাইস থেকে কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করতে চাইলে ফেসবুক আপনার সংশ্নিষ্ট সেলফোন নম্বর কিংবা ই-মেইল ঠিকানায় কোড পাঠাবে। এই কোড প্রদান ছাড়া ফেসবুকে ঢোকা যাবে না। ফলে পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও অনেক সময় নতুন ডিভাইস থেকে অন্য কেউ আপনার ফেসবুকে ঢুকতে চাইলে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড না দিতে পারায় আপনার প্রোফাইলে প্রবেশ করতে পারবে না।

পেজের কার্যক্রম ও নিয়মনীতি:

পেজের যেসব কার্যক্রম এবং নিয়মনীতি আছে, সেগুলো জেনে নিন। আপনার পেজের সেটিংয়ে যাদের অ্যাডমিন এক্সেস আছে, তাদের নিয়মিত পেজের কার্যক্রম এবং নিয়মনীতি পর্যালোচনা করা এবং আপনার পেজে কোন ব্যবসা ব্যবস্থাপক যুক্ত করার সময় নিজের দেওয়া নিয়মগুলোর ব্যাপারে ভেবে দেখতে হবে। সাধারণত পেজের অ্যাডমিন একাধিক হলে ভালো। কেননা কোনো কারণে কখনও আপনি আপনার পেজের অ্যাক্সেস হারিয়ে ফেলেন, আপনার বিশ্বস্ত কেউ পেজের আপডেট করাসহ অন্যান্য কাজ চালিয়ে যেতে পারেন এবং আপনাকেও আবার সেখানে ফিরিয়ে নিতে পারেন।

অপরিচিতদের না বলুন:

অপরিচিত কারও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। অনেকে বন্ধুত্ব করে তাদের কাছ থেকে কার্যসিদ্ধি করার লক্ষ্যে স্ক্যামার বা সন্দেহজনক ব্যক্তি নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে। এদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করলে তারা আপনার টাইমলাইনে স্প্যাম পোস্ট করে আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। স্ক্যামার আপনাকে এবং আপনার পরিচিতজনকে বিদ্বেষপূর্ণ পোস্ট ট্যাগ করতে এবং মেসেজ পাঠাতে পারে। তাই সতর্কতার সঙ্গে পরিচিত এবং বিশ্বস্তদের বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করা উচিত। একইভাবে, পেজ ম্যানেজ করার জন্য এমন কোনো নিয়মনীতি রাখবেন না যে বিষয়ে আপনি বিস্তারিত জানেন না। আপনার পেজের সন্দেহজনক কোনো অনুরোধ আপনি এখানে রিপোর্ট করতে পারেন।

সন্দেহজনক লিঙ্ক এবং ক্ষতিকর সফটওয়্যারে সতর্কতা:

অপরিচিত লিঙ্ক, বিশেষ করে আপনি যাদের জানেন না বা বিশ্বাস করেন না, তাদের কাছ থেকে আসা লিঙ্কগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করা, সন্দেহজনক ফাইল ওপেন করা বা সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করা বা ব্রাউজার এক্সটেনশন করার বিষয়ে কোনো বন্ধু বা পরিচিত সংস্থার কাছ থেকে অনুরোধ এলেও সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। এর মধ্যে ফেসবুক, ব্যক্তিগত মেসেজ এবং ই-মেইলে পাঠানো লিঙ্ক অন্তর্ভুক্ত। মনে রাখবেন, ফেসবুক কোনো মেইলে কখনও আপনার পাসওয়ার্ড জানতে চাইবে না। ফেসবুক থেকে পাঠানো বলে দাবি করা কোনো মেইলের সত্যতা প্রমাণ করার জন্য ফেসবুক সম্প্রতি সিকিউরিটি ও লগ ইন সেটিংয়ে যে মেইলগুলো পাঠিয়েছে তা দেখে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।

যদি মনে করেন আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য শেয়ার করার জন্য কোনো পোস্ট বা বার্তা পাঠানো হচ্ছে, তাহলে দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে। আপনার ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে ভাইরাস আক্রমণ থেকে বাঁচানোর জন্য সন্দেহজনক সফটওয়্যারের চিহ্নগুলো এবং তা থেকে আপনার ডিভাইসকে রক্ষা করার উপায় সম্পর্কে জানুন। আপনার ডিভাইস, ওয়েব ব্রাউজার এবং অ্যাপিল্গকেশন আপটুডেট রাখা এবং সন্দেহজনক অ্যাপিল্গকেশন বা ব্রাউজ অ্যাড-অন অপসারণ করার বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে।

বিশ্বস্ত কন্টাক্ট সেট করা:

যদি কোনো কারণে আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট এবং পেজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, সেজন্য আগেই আপনার বন্ধুদের বিশ্বস্ত কন্টাক্ট হিসেবে সেট করে রাখতে পারেন। আপনি যেন নিজের অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে পারেন, সে জন্য তারা আপনাকে ইউআরএলের মাধ্যমে একটি রিকভারি কোড পাঠাতে পারবে। সবশেষে, যদি মনে হয় আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের বিষয়ে আপনাকে কোনো না কোনোভাবে আপস করতে হচ্ছে, তাহলে facebook.com/hacked ঠিকানায় রিপোর্ট করে সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে।

লিংক কম্পিউটার যশোর এর বিজ্ঞাপন

About বাংলা ভোর

সবার আগে আমরা

Check Also

মহেশপুরে এক স্কুল ছাত্রী গত ৬ দিন ধরে নিখোঁজ

শামীম খাঁন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  গত ৩১ অক্টোবর সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গুড়দাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *