Breaking News
Home / ভ্রমণ / সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া পর্যটকরা আতঙ্কে

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়া পর্যটকরা আতঙ্কে

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে কক্সবাজারের থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বেড়েছে বাতাসের গতিও। এতে সেন্টমার্টিনে বেড়াতে এসে আটকা পড়া অনেক পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্বীপে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়টা বেশি কাজ করছে তাদের মাঝে।

দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ না ছাড়ায় দেড় হাজার পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন।

শনিবার দুপুরে দ্বীপে আটকাপড়া বেশ কয়েকজন পর্যটকদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে। তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ আদিল বলেন, ‘প্রথমবারের মত বন্ধুদের সঙ্গে প্রবাল দ্বীপ বেড়াতে এসেছি। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে দ্বীপে আটকা পড়েছি। শুক্রবার দিনে বেলায় তেমন একটা ভয় কাজ করেনি। রাতে যখন বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বেড়েছে তখন থেকে ভয় হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সবাই একদিনের টাকা নিয়ে এখানে ভ্রমণে এসেছি, এখন টাকাও শেষ।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, ‘সাগরের বুকে জেগে ওঠা সেন্টমর্টিন দেখতে অনেক সুন্দর। তবে যখন বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয় তখন সাগর ভয়ানক হয়ে ওঠে। মনে হয় দ্বীপটি এক মুহূর্তে তলিয়ে যাবে। এর আগে দ্বীপে ভ্রমণে আসা হয়নি। এই প্রথম দ্বীপে বেড়াতে এসে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। বাসা থেকে পরিবারের লোকজন খোঁজ খবর রাখছেন, খুব ভয় কাজ করছে।

সেনমার্টিনে আটকে পড়া ঢাকার সোমন মুঠোফোনে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ১৭ বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। শুক্রবার জানতে পারি বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো জাহাজ ছাড়ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছি সবাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শতশত পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের মাঝে ভয়-আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে।

তবে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের হোটেল ও খাবার বিল ডিসকাউন্ট দিতে সকল হোটেল-মোটেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ।

তিনি বলেন, ‘রাত থেকে দ্বীপে বৃষ্টি ও বাতাস বেড়েছে। এজন্য পর্যটকদের রুম থেকে কাউকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া দ্বীপের চারদিকে সমুদ্র সৈকতে যাতে কোন পর্যটক না নামে, পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। যারা প্রথমবারের মত সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে এসেছে, তাদের মধ্যে কিছু লোকজন ভয়ের মধ্যে রয়েছে বলে শুনেছি। তবে দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকদের সার্বক্ষণিক খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

সমুদ্র উত্তাল থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এক হাজারের বেশি পর্যটক টেকনাফে এসেও সেন্টমার্টিন দ্বীপে না যেতে পারেননি। তবে এর আগে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে এসে আটকা পড়েছেন দেড় হাজার পর্যটক। এদিকে পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের সমন্বয় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ‘এখনও ৪ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এই রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকদের খোজঁ খবর নেওয়া হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইনের টেকনাফের ব্যবস্থাপক শাহ আলম বলেন, ‘তার জাহাজে আসা দ্বীপে আটকা পর্যটকদের খবর নেওয়া হচ্ছে। কেউ যাতে ভয় না পায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে জাহাজ চলাচল শুরু হলে তাদের ফেরত আনা হবে।

সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আজমীর ইলাহি বলেন, দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে।

সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ইউএনও নির্দেশে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের ডিসকাউন্ট দেওয়ার সিন্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী সবার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীদের দেড় কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকরা যাতে কোনভাবে হয়রানির শিকার না হয়, সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে থাকে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্তক অবস্থানে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সেন্টমার্টিনের পাচঁটিসহ মোট ৬৫টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

লিংক কম্পিউটার যশোর এর বিজ্ঞাপন

About বাংলা ভোর

সবার আগে আমরা

Check Also

শেরপুরে বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধঃ যাত্রীদের ভোগান্তি

আব্দুস সালাম শাহীন, শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় …