Breaking News
Home / জাতীয় / সন্ধ্যায় ১৫০ মাইল বেগে আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল

সন্ধ্যায় ১৫০ মাইল বেগে আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল

বর্তমান অবস্থান ও গতি ঠিক থাকলে প্রবল গতিসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আজ শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। বঙ্গোপসাগর থেকে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসছে। বর্তমান গতিপথ ঠিক থাকলে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরের ওপর দিয়ে স্থলভাগে উঠে আসবে হারিকেন ক্যাটাগরি-২ মানের ঘূর্ণিঝড় হিসেবে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় এর গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। এ দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এগিয়ে আসায় চট্টগ্রাম বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে কয়েক শ’ লাইটার জাহাজসহ ফিশিং ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকাগুলো।
বাংলাদশের আবহাওয়া অধিদফতর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ৬টায় ১৮ নম্বর বুলেটিনে জানিয়েছে, বুলবুল আরো উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় (১৮.৫ক্ক উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৭.৬ক্ক পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি সামনের দিকে স্থানভেদে প্রায় ৭৫ থেকে ৮৫ কিলোমিটার এগিয়েছে। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর অথবা উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত নামিয়ে ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সঙ্কেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত নামিয়ে ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সঙ্কেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ও চাঁদের শুক্লপক্ষের (মুন ফেজ) প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

কানাডা থেকে আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল গতকাল সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ঠিক কখন উপকূলে আঘাত হানবে এটা স্পষ্ট করে এখনো বলা যাচ্ছে না। বিভিন্ন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিভিন্ন রকম সময়ের কথা উল্লেখ আছে। আমেরিকার গ্লোবাল ফোরকাস্ট সিস্টেম (জিএফএস), কানাডার জিইএম আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় আঘাত হানতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। আবার জার্মানির আইসিওএন, আমেরিকার নেভি গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট মডেল (এএভিজিইএম) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্ট (ইসিএমডব্লিউএফ) শনিবার দুপুর ১২টায় উপকূলে আঘাত হানবে বলে উল্লেখ করেছে।
মোস্তফা কামাল বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের স্থলভাগে প্রবেশের সময় গতিবেগ থাকতে পারে ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের অংশ স্থলভাগে প্রবেশের পর এর কেন্দ্র এবং ঘূর্ণিঝড়ের পশ্চাৎভাগের অংশ স্থলভাগের ওপরে আসতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লেগে যায়। এ কারণে একটি ঘূর্ণিঝড় কোনো স্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে শেষ করতে সময় লেগে যায় ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা। ফলে একই স্থানে ঘূর্ণিঝড়টি ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা এর তাণ্ডব চালিয়ে যেতে পারে।
মাতমোর অবশিষ্টাংশ থেকে বুলবুল : গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় মাতমো ভূমির ওপর দিয়ে এক হাজার ৮০০ কিলোমিটার ভ্রমণের পর পুনরায় জন্ম নিয়েছে বুলবুল হিসেবে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড়ের এ ধরনের পুনঃজন্ম অস্বাভাবিক নয়, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মাতমো ফিলিপিন সাগরে গঠিত হয় গত ২৪ অক্টোবর। পরে মাতমো ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ চীন সাগরে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়। মাতমো এ ধরনের চতুর্থ গ্রীষ্মণ্ডলীয় ঝড়, যার পুনঃজন্ম হয়েছে এবং এ ধরনের ঝড়ের মধ্যে মাতমোই দ্বিতীয় ঝড়, যেটা হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন হতে যাচ্ছে।

লিংক কম্পিউটার যশোর এর বিজ্ঞাপন

About বাংলা ভোর

সবার আগে আমরা

Check Also

আজ দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন (কপ ২৫) ২৫তম বার্ষিক সম্মেলনের ‘রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের’ …