Home / ফিচার / অবহেলা নয় অক্সিজেন চাই-মোঃরাকিব হোসেন (চাঁদ)

অবহেলা নয় অক্সিজেন চাই-মোঃরাকিব হোসেন (চাঁদ)

ঘুমানোর ভান করে যখন শুয়ে থাকি, মাথায় নানান চিন্তা ভাবনা উঁকি দিয়ে যায়। ভাবনায় ধরা পড়ে অনেক কিছু। অনেক কিছু করবো, হবে আমাকে দিয়ে অনেক কিছুই হবে এমন ভাবনাতে রক্তের গতি বেগ বেড়ে যায় কয়েক গুন। আচমকা বিছানা ছেড়ে ওঠে ভাবনার কাজ গুলো করতে ইচ্ছা করে বা করার ও চেষ্টা করি কিংবা নানান পরিকল্পনা করি। তবে মনের মধ্যে একটা আগুন যে জ্বলে ওঠে তা দীর্ঘস্থায়ী করার কোন জ্বালানি খোঁজে পাই না। যার কারনে দমকা এক কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু এসে নিভিয়ে দিয়ে যায়।

তবে মনের কোনে সৃষ্টি হওয়া সে করতে পারবো চিন্তাটা মনের মধ্যে একটা ক্ষত সৃষ্টি করে দেয়। ক্ষতে ঘাঁ সৃষ্টি হয়ে এক সময় ক্যান্সার হয়ে মারা যায় সেই এক এক করে জমাট বাধা ইচ্ছা শক্তির কোষ গুলো। মনের ভেতরে যে আগুনটা জ্বলে তাতে অক্সিজেন সরবরাহ করার বড্ড অভাব,, একটু অক্সিজেন পেলে সে আগুন কিন্তু অনেক দূর ছড়িয়ে পড়বে। মনের মধ্যে দাবানল সৃষ্টি করবে, না দিবে ঘুমাতে না দিবে জিরাতে। অক্লান্ত পরিশ্রম করার জন্য দিবে শুধু তাড়না। বলবে শুধু ভাগ বেটা ভাগ, দৌড়া বাঘের সাথে দৌড়া কচ্ছপের সাথে না,, সিংহের সাথে লড়াই কর বিড়ালের সাথে না। সেই আগুন টা ধরতে গিয়েও ধরে না। হয়তো পরিবার কিংবা সমাজের চাপে নয় তো পেছন থেকে একটা সাপোর্ট পাওয়ার অভাবের কারনে। মনের আগুন টা জ্বালিয়ে দেওয়ার বা ভেতরে কি আছে তা খোঁজে দেখার একটা সঠিক চান্স পাওয়া যেতো তাহলে এক একটা হীরা তৈরী হতো আমার বাংলার গ্রাম থেকে।

আমরা রুটিন মাফিক যে গাছে পানি দি তাতেই পানি দি, তাতেই বালাই নাশক দি আর তাতেই বল বর্ধক রাসায়নিক দি, কিন্তু সে গাছের পাশে যে প্রাকৃতিক ভাবে থানকুনি জন্মেছে সে দিকে লক্ষ করি না আর তা নিতান্ত মাটির সাথে লেপ্টে আছে বলে তার ঔষধী গুনের দিকে লক্ষ ই করি না, আমার লক্ষ তো সু-উচ্চ ইউক্যালিপ্টাস গাছের দিকে, তাকে বৃদ্ধি করতে আমি মরিয়া। কিন্তু সে বড় হতে হতে আমার থেকে কী কী কেড়ে নিল আর কী দিল তার হিসাব কষি না, কষলে কেন নিম গাছের পেছনে না দৌড়িয়ে ইউক্যালিপ্টাসের পিছে মরিয়া হয়ে পড়ি। কথার মর্মে এই আনতে চাইলাম যে আগাছা ভেবে গ্রামের হাজারো হীরাকে কয়লাতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে, সেই হীরের খোঁজ কেউ করে না, আর ফরমালিন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা সেই শহরের মাথা গুলোকে চাষাবাদ করে যাচ্ছে। যেখানে দিয়াসলাই এর কাঠিতে আগুন ধরবে সেখানে চেষ্টা না করে পেট্রল দিয়েও যেখানে আগুন ধরে না সেখানে গ্যাস সংযোগে আগুন ধরানোর চেষ্টা। আর গ্রামের ছেলেদের নিজে থেকে জ্বলে ওঠা সেই আগুন টা একটু অক্সিজেন এর অভাবে নিভে যায়।এই ছেলেগুলো এক একটা আদর্শ কাঁচামাল যাদের প্রক্রিয়াজাত করন করার অভাবে সেই কাঁচামাল গুলো দিয়ে কোন স্পেশাল প্রোডাক্ট বাজারজাত করতে পারছি না শুধু মাত্র পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে। এই অক্সিজেন রুপী পৃষ্ঠপোষক আজ খুব দরকার আমাদের মনের আগুনটা দাও দাও করে জ্বলাতে।

তবে লাখো কোটি গ্রাম বাংলার ছেলের হয়ে আমার মনে এই প্রশ্ন হামেশা ই জাগে আদৌ কখনো এই গ্রাম বাংলার ছেলেদের মনে নিজে থেকে জ্বলে ওঠা এই আগুনে কী সারা বছর কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ বায়ু এসে নিভিয়ে দিবে কখনো কী পৃষ্ঠপোষক রুপী অক্সিজেন সরবরাহ হবে না এই আগুনে??তবে কী এই কাঁচামাল গুলো নীরবে নিবৃতে রয়ে যাবে আর পঁচে গলে ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হবে??কখনো কী কেউ আসবে না গ্রাম বাংলার ছেলেদের মনের আগুনে অক্সিজেন সরবরাহ করে এই কাঁচামাল গুলো দিয়ে স্পেশাল প্রোডাক্ট বানাতে??

লিংক কম্পিউটার যশোর এর বিজ্ঞাপন

About বাংলা ভোর

mm
সবার আগে আমরা

Check Also

শ্রীমঙ্গল শহরের স্থানে স্থানে রাস্তাঘাটের কি বেহাল দশা

।। সৈয়দ মিজানুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক আজ শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়ক ও স্থাপনা গুলো …

One comment

  1. খুব ভালো লেখা হয়ছে। ধন্যবাদ লেখক রাকিব কে।